সদ্য যুব বিশ্বকাপে মাতিয়ে আসা ছেলেটার সুযোগ হয় তৎকালীন চিটাগং কিংসের নেট বোলার হিসেবে। হালকা পাতলা গড়নের ৬ ফুট লম্বা রোগা ছেলেটা, কিংসদের হেড কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের মনিকোঠায় আটকে গেলেন। সুযোগও পেয়ে গেলো কিংসদের হয়ে মাঠে নামার। তবে শুরুটা রাঙাতে পারেননি সেভাবে। প্রথম সুযোগে স্টিভেনের উইকেট নিয়েই থাকতে হলো সন্তুষ্ট।
তবে সমালোচনা মুখে পড়েও খালেদ মাহমুদ আরো একবার আস্থা রাখলেন ছেলেটার উপর। আর তাতেই করে বসলেন বাজিমাত। সেমিফাইনালের মঞ্চে দূরন্ত রাজশাহীকে একাই উড়িয়ে দিয়ে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে গেলেন। সে ম্যাচে ৩১ রান খরচায় তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট, সঙ্গে জুটে ম্যাচসেরার পুরষ্কারও। খালেদ মাহমুদ সুজন যেন এবার হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।
যে ছেলেটা কল্পনাই করেনি চিটাগং কিংসের হয়ে মাঠে নামবে, সেই ছেলেটাই কিনা নামলেন বিপিএলের ফাইনাল খেলতে। হোম অফ ক্রিকেট মিরপুরে সেদিন উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০ হাজারের বেশি দর্শক। এর আগে কখনোই এতো দর্শকের উপস্থিতিতে না খেলা ছেলাটার হাতে বল তুলে দিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে ব্যাট করতে নামলেন তিলকারত্মে দিলশান ও মোহাম্মদ আশরাফুল। প্রথম ৫ বল থেকে খরচ করলেন ৫ রান। ওভারের শেষ বলটি করার জন্য দৌঁড় শুরু করলেন সদ্য কৈশোর পার করতে যাওয়া ছেলেটা। চোখে তখন একরাশ স্বপ্ন। ব্যাট হাতে দিলশানও প্রস্তুত বলটিকে বাউন্ডারি ছাড়া করতে। ঘন্টায় ৮১ মাইল গতির গুড লেন্থ ডেলিভারি ঠিক বুজে উঠতে পারেনি দিলশান। কিছুটা নিচু হয়ে ব্যাট চালালেন সমানতালে।
কিন্তু লাইন মিস করে বসলেন তিনি। ততক্ষণে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে চর্ম গোলকটি সজোরে আঘাত হানলো প্যাডে, পরমূহুর্তেই শূন্যে ভাসতে থাকলো স্ট্যাম্প। ছেলেটাকে আর পায় কে? দিলেন ভৌ দৌঁড়! পেছন পেছন ছুটতে থাকলেন সতীর্থরা। সে ম্যাচে আরো একবার উইকেট উদযাপনের সুযোগ হলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ফাইনাল জেতা হয়নি। তবে সেদিন বাংলাদেশ পেয়েছিল মহামূল্যবান একটা রত্ন।
কার কথা বলছি এতক্ষনে অনুমান করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই? হ্যাঁ সেদিন আবির্ভাব ঘটে তাসকিন আহমেদের। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক স্বপ্নসারথি।🥰



